ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স কি এবং এটি কেন প্রয়োজন?

Travel insurance documents to help travelers feel confident in travel safety.

আমরা অনেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনে যেমন ব্যবসায়িক কাজে, অবকাশ যাপন করতে, বা পড়াশুনা করতে বিদেশে ভ্রমণ করে থাকি। বিদেশে ভ্রমণ করার সময় অনাকাঙ্খিত অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় অনেকেরই বিপদে পড়তে হয় এবং বিপুল পরিমান অর্থ খরচ হয়ে যায়, কারণ বিদেশে চিকিৎসা এবং এর আনুষাঙ্গিক ব্যাপার গুলো বেশ ব্যয়বহুল। এজন্য বিদেশে যাওয়ার সময় ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স বা ভ্রমণ বীমা করে নিয়ে যাওয়া উত্তম কারণ কোনো অনাকাঙ্খিত বিপদে চিকিৎসা বা অন্যান্য খরচের বিপরীতে কভারেজ পাওয়া যায় ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স এর মাধ্যমে। আমাদের বিদেশে ভ্রমণের মোট খরচের তুলনায় ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স এর মূল্য বা প্রিমিয়াম সামান্য টাকাই মাত্র, কিন্তু সঠিক সময়ে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স করার কথা আমাদের অনেকেরই মনে থাকে না বা গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

অনলাইনে খুব সহজে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স অর্ডার করতে বিমফাই ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করুন, আপনার পছন্দ অনুযায়ী ইনস্যুরেন্স কোম্পানি বাছাই করে অনলাইনেই পেমেন্ট করুন। অতিদ্রুত আপনার ইমেইলে পলিসির সার্টিফিকেট চলে যাবে এবং বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় ফ্রি হোম ডেলিভারি পেয়ে যাবেন।

বিদেশে ভ্রমণকালে যেকোনো বিপদে থাকুন আর্থিকভাবে সুরক্ষিত। বীমা দাবি বা ক্লেইম করতে হলে বিমাফাই এর সহযোগিতা পেয়ে যাবেন কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই। আপনার ক্লেইম দ্রুত নিস্পত্তি করার জন্য বিমফাই আপনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

বিদেশে ভ্রমণকালে বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর বিপদে পড়তে হয় আকস্মিক অসুস্থতা বা সড়ক দুর্ঘটনার কারণে। মাঝে মাঝে বেড়াতে যেয়ে নিছক সাধারণ কারণেও অনেক সময় গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা ঘটে যায় কারণ নিজ দেশের বাইরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকেই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বা উপযুক্ত সহযোগিতার অভাবে অল্পতে বিপদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে, পৃথিবীর অনেক দেশেই যেতে হলে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স বর্তমানে বাধ্যতামূলক। যেমন, শেনজেন ভুক্ত ২৬টি দেশে ভিসা আবেদন করতে হলে নূন্যতম ৩০,০০০ ইউরো কভারেজের ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স পলিসি প্রয়োজন হয়। শেনজেন ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, ফিনল্যাণ্ড, পোল্যান্ড, নরওয়ে, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, মালটা, পর্তুগাল, সুইডেন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য এবং এইসকল দেশে ভিসা আবেদন করতে হলে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স পলিসি করার প্রয়োজন হয়। এছাড়াও যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, মিশর, ওমান, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ফিলিপিন্স, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ইত্যাদি দেশে ভ্রমণ করতে হলে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স করা বাধ্যতামূলক।

এসকল কথা বিবেচনা করে আমাদের দেশের ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো ভ্রমণকারীদের জন্য ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স বা ভ্রমণ বীমা প্যাকেজ চালু করেছে। ভ্রমণ চলাকালে আপনার বিভিন্ন বিপদ আপদে এই ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স আপনাকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা করে যেমন ট্রাভেল অ্যাসিস্ট্যান্স, ইমার্জেন্সি ইভাকুয়েশন, ইত্যাদি। বিভিন্ন ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি বিভিন্ন ধরণের ইনস্যুরেন্স প্যাকেজ প্রদান করে থাকে যার কভারেজের পরিমাণও বিভিন্ন রকমের হয়। ভ্রমণে আপনি একা যাচ্ছেন না পরিবার নিয়ে যাচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কোন ধরণের কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকবেন, এইসবের উপর ভিত্তি করে আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ী ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স পলিসি নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার বয়স, ভ্রমণের সময়কাল, কোন দেশে যাচ্ছেন, কত টাকার কভারেজ, এসবের ভিত্তিতে আপনার ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হবে।

আসুন, ট্রাভেল ইনস্যুরেন্সের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও কভারেজ গুলো কি কি জেনে নিই।

আমাদের দেশে বর্তমানে প্রচলিত ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স প্যাকেজ গুলো ৫০,০০০ ডলার পর্যন্ত কভারেজ প্রদান করে থাকে। আপনি যদি শেনজেন ভুক্ত দেশে ভ্রমণ করেন তাহলে আপনি ৩০,০০০ ইউরো পর্যন্ত কভারেজ পাবেন। এই কভারেজ বা বীমা অংকের পরিমান পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের ক্ষতির বিপরীতে আপনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন। কি কি ক্ষেত্রে আপনি ইনস্যুরেন্স ক্লেইম করতে পারবেন সেগুলো নিম্নে বর্ণনা করা হল।

জরুরি মুহূর্তে পরিবহন ব্যায়:
ভ্রমণের সময় কোনো আকস্মিক গুরুতর অসুস্থতায় বা দুর্ঘটনায় যদি বীমাকৃত ব্যক্তি যদি আহত হয় হয় তাহলে জরুরীভাবে তাকে হাসপাতালে বা নিকটস্থ কোন সেবা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যয় ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স এর মাধ্যমে ফেরত পাওয়া যায়।

বিশেষায়িত পরিবহন ব্যয়:
অনেক ক্ষেত্রে বীমাকৃত ব্যক্তি আকস্মিক অসুস্থতার কারণে বা দুর্ঘটনার কারণে সাধারণ পরিবহনের মাধ্যমে চলা-ফেরা করতে সাময়িকভাবে অক্ষম হয়ে যান এবং তাকে হাসপাতালে নিতে বা দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা (যেমন: এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) প্রয়োজন হয়, যা একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ব্যাপার। ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স ওই ক্ষেত্রে বিশেষায়িত পরিবহনের খরচের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।

জরুরী মেডিকেল কভারেজ:
দুর্ঘটনায় আহত হলে বা আকস্মিক অসুস্থতার কারণে বীমাকৃত ব্যক্তিকে যদি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয় তাহলে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স এর বিপরীতে ক্লেইম করে চিকিৎসা খরচের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।

আকস্মিক দাঁতের ব্যাথার চিকিৎসা:
বিদেশে যাওয়ার পরে হঠাৎ করে দাঁতের ব্যাথা দেখা দিলে তার চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ একটি নির্দিষ্ট পরিমান পর্যন্ত ফেরত পাওয়া যায়।

প্রত্যাবাসন/দাফন ব্যয়:
বিদেশে ভ্রমণকালে বীমাকৃত ব্যক্তি যদি হঠাৎ মারা যান তাহলে তার মৃতদেহ এবং লাগেজ/ব্যাগ ইত্যাদি দেশে ফিরিয়ে আনা (প্রত্যাবাসন) বেশ ব্যয়বহুল ব্যাপার এবং ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স এই খরচের ক্ষতিপূরণ তার নমিনিকে (উত্তরাধিকারী) প্রদান করে। এমনকি, যদি মৃত ব্যক্তিকে যদি বিদেশেই দাফন করা হয় তাহলে সেই খরচের ক্ষতিপূরণও নমিনি পাবেন।

কয়েকটি লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, অন্য যেকোনো ইনস্যুরেন্স পলিসির মত ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স পলিসিতেও কিছু শর্ত রয়েছে এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে কভারেজ পাওয়া যায় না। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হল পূর্ব থেকে বিদ্যমান যেকোনো অসুস্থতার চিকিৎসা, বেআইনি কর্মকান্ডের কারণে দুর্ঘটনা, যুদ্ধ-বিগ্রহ, পেশাদারি খেলা-ধুলার কারণে দুর্ঘটনা, গর্ভাবস্থা, সাধারণ হেলথ চেক-আপ, ইত্যাদি। তাই, ইনস্যুরেন্স পলিসি করার সময় এর শর্ত সমূহ এবং কভারেজ বহির্ভুত ব্যাপারগুলো জেনে নেওয়া উত্তম যাতে পরবর্তীতে ক্লেইম পেতে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন না হতে হয়।